গণিতের অঙ্কের ফাঁকে জন্ম নেওয়া কবিতার পৃথিবী
পেশায় তিনি একজন গণিতের শিক্ষক। অথচ কলম ধরলে অঙ্কের সূত্র ছাপিয়ে উঠে আসে অনুভূতির ভাষা, ভাল থাকার কথা, মানুষের সঙ্গে মানুষের সুসম্পর্কের বার্তা। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এগরার বাসিন্দা মানস মাইতি আজ শুধু একজন শিক্ষক নন, তিনি লাখ লাখ পাঠকের হৃদয়ের কবি।
সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে আজ তাঁর কবিতা পৌঁছে গেছে দুই বাংলার প্রতিটি কোণে। সহজ শব্দে গভীর অনুভব প্রকাশ করাই তাঁর লেখার সবচেয়ে বড় শক্তি।
ছোটবেলার কলম ধরার অভ্যাসই তৈরি করেছে কবিকে
পারিবারিক অনুপ্রেরণায় শব্দের সঙ্গে প্রথম পরিচয়
ছোটবেলা থেকেই কবিতা লেখার প্রতি ঝোঁক ছিল মানস মাইতির। বাড়ির পরিবেশেই শব্দের সঙ্গে পরিচয়। পরিবারের অনুপ্রেরণাই ছিল তাঁর পথচলার মূল শক্তি। কবিতা তাঁর কাছে কখনও শুধুই সাহিত্য ছিল না, ছিল নিজের অনুভূতি প্রকাশের সহজতম মাধ্যম।

তখনও তিনি জানতেন না, এই লেখালেখিই একদিন তাঁকে দুই বাংলার মানুষের কাছে পৌঁছে দেবে। ধীরে ধীরে তাঁর কবিতায় আকার নিতে থাকে জীবনের গল্প, ভাল থাকার বার্তা, মানুষের প্রতি মানুষের টান।
শিক্ষকতা ও কবিতা – দুটোই সমান যত্নে সামলান
পটাশপুরের শ্রীরামপুর হরপ্রসাদ হাইস্কুলের প্রিয় শিক্ষক
মানস মাইতি পেশায় একজন গণিত শিক্ষক। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পটাশপুরের শ্রীরামপুর হরপ্রসাদ হাইস্কুলে পড়াচ্ছেন। ছাত্রছাত্রীদের কাছে তিনি যেমন প্রিয় শিক্ষক, তেমনই পাঠকদের কাছে প্রিয় কবি।
ক্লাসের অঙ্কের ফাঁকেই ভাবনার খাতায় জন্ম নেয় কবিতা। সময় পেলেই লিখে ফেলেন দু’চার লাইন—কখনও কবিতা, কখনও গান। তাঁর লেখায় নেই জটিলতা, নেই ভারী শব্দ। সহজ ভাষায় তিনি বলেন জীবনের কথা, বলেন ভাল থাকার কথা।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল কবিতা, ছুঁয়ে যাচ্ছে কোটি হৃদয়
ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রামে জনপ্রিয় মানস মাইতি
মানস মাইতির লেখা কবিতাগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য – ‘ভাল থাকা’, ‘কারমাটার আজও কাঁদে’, ‘মানুষ ও ঈশ্বর’ সহ আরও বহু লেখা। এই কবিতাগুলি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক জনপ্রিয়।
ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রামের মতো মাধ্যমে তাঁর শব্দ আজ ছড়িয়ে পড়েছে লক্ষ লক্ষ পাঠকের কাছে। বহু জনপ্রিয় কণ্ঠে আবৃত্তি হচ্ছে তাঁর লেখা। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ তাঁর কবিতায় খুঁজে পাচ্ছেন নিজের জীবনের গল্প।

মন্তব্যে আবেগ, অনুপ্রেরণায় ভরা প্রতিক্রিয়া
কবিতায় খুঁজে পাচ্ছেন মানসিক শক্তি
পাঠকদের মন্তব্যেই ধরা পড়ে তাঁর লেখার প্রভাব। কেউ লিখছেন অনুপ্রেরণার কথা, কেউ বলছেন মানসিক শক্তি পাওয়ার কথা। ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি, কাজের চাপ, মানসিক অবসাদের মাঝেও তাঁর কবিতা যেন একটু শান্তির নিঃশ্বাস।
মানুষ কীভাবে নিজের জন্য একটু সময় বের করবে, কীভাবে ভাল থাকবে – সেটাই তাঁর লেখার মূল সুর।
দুই বাংলার মানুষের হৃদয়ে আলাদা জায়গা
বাংলাদেশেও সমান জনপ্রিয় মানস মাইতি
শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, মানস মাইতির জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশেও। ওপার বাংলা থেকেও আসছে শুভেচ্ছা বার্তা। সেখানেও রয়েছে তাঁর অসংখ্য পাঠক।
সহজ কথায়, সহজ ভাষায় তিনি দুই বাংলার মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন।
কবিতাই তাঁর মাধ্যম, মানুষের ভাল থাকাই তাঁর লক্ষ্য
মানস মাইতির লক্ষ্য শুধু কবিতা লিখে মন জয় করা নয়। তিনি চান – কাজের চাপ, জীবনের ক্লান্তি আর মানসিক অবসাদের মাঝেও মানুষ যেন একটু হাসতে পারে, একটু স্বস্তি পায়।
সেই কারণেই তিনি কবিতাকেই বেছে নিয়েছেন মাধ্যম হিসেবে। শব্দের শক্তিতে তিনি বিশ্বাস করেন। আর সেই বিশ্বাস নিয়েই লিখে চলেছেন একটার পর একটা কবিতা, একটার পর একটা গান।
অঙ্কের শিক্ষক থেকে লাখ লাখ পাঠকের কবি হয়ে ওঠা মানস মাইতি আজ সত্যিই অনুপ্রেরণার নাম।







